Skip to main content

স্লিপ ডে

                 🌾    রম্যরচনা  🌾
              ☀️    গল্পের নাম ---   স্লিপ ডে  ☀️ 
                    
                              রচনা -----‌  সমীর
সেদিন সকালে হরেনের বউয়ের চিৎকারে হঠাৎ ঘুম
 ভেঙে গেল। হরেন আমার প্রতিবেশী , আমরা এক
 পাড়াতেই থাকি। আমার বাড়ির পাশের বাড়ি হলো‌
হরেন দাদা নগেনের ,আর নগেনের পরের বাড়িটি হলো
হরেনের ।
হরেনের বৌউের এই হঠাৎ  ঠিৎকারে , কাঁচা ঘুম থেকে উঠে
হরেন বাড়ির দিকে ছুট দিলাম। 
আমি ওখানে পৌঁছানোর আগেই আমাদের পাড়ার অনেকেই
হরেনের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে।
হরেনের বৌউ আমাকে দেখতে পেয়েই ফুঁপিয়ে - ফুঁপিয়ে কাঁদতে - কাঁদতে বলে ঠাকুরপো গো , কোন কথা কইছে না গো , ডাক দিলে রা কাটতেছে না যে গো ।
এই সাত - সকালে মোর কি সর্বনাশ হই গেল গো ঠাকুরপো ?
মাটিতে মাথা ঠুকতে - ঠুকতে কাঁদতে লাগলো , তুমি কই গেলো গো , তুমি  ক-- ই---গে---লে---গো----
 আমি হরেনের বৌকে শান্ত করবার চেষ্টা করছি।
এই দিকে আমাদের পাড়ার কয়েকজন শাবল  , কুড়ুল দিয়ে
হরেনের ঘরের দরজা ভেঙে ফেলছে।
হরেন এই ঘরে একাই প্রতিদিন ঘুমায় , আর ঘরটির দরজা
হরেন ভিতর থেকে খিল এঁটে ঘুমিয়ে ছিল।
তাই হরেনের ঘরের দরজা ভাঙা ছাড়া আর অন্য কোন উপায় ছিলো না ।
এতক্ষণে হরেনের ঘরের দরজা ভেঙে বেশ কয়েকজন হরেন
যে ঘরটিতে ঘুমিয়ে ছিল । সেই ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়েছে।
তারা উচ্চ স্বরে হরেন দা , ও হরেন, হরেন---
বলে হরেনে কে বেশ জোরে -জোরে ঢাক্কা দিল ।
উঁহু হরেনের কোন নরন - চরন নেই।
আমার বুকের ভিতর টা কেমন যেন ছ্যাঁৎ করে উঠলো।
আমাদের অফিসের সৌমেনদার কখা মনে পড়ে গেলো।
এই কয়েক দিন আগেই ‌‌‌‌‌‌‌ আমার পাশে বসেই কাজ করছিলো
সৌমেন দা। হঠাৎ চেয়ার থেকে ঢলে পড়ে গেলেন মেঝেতে
আর তার পর সব শেষ --------
আসলে মানুষের জীবন এই ঝড়া পাতার মতো , কখন যে
টুক করে খসে যাবে , তা কেউ জানেনা।
আমরা আর বেশী দেরী করলাম না , হরেনের বৌ আর নাবালক ছেলেটাকে পাড়ার মেয়েদের জিম্বায় রেখে।
আমরা হরেনের দেহটিকে খাটিয়ায় তুলে শ্মশানের উদ্দেশে রওনা দিলাম । 
শ্মশানে চিতার কাঠ সাজানো হয়েগেছে , হরেনের দেহ টি চিতায় তোলা হবে , এমন সময় আমাদের মধ্যে থেকে একজন বলে ---
 আচ্ছা হরেনের  মুখে আগুন কে দেবে  ?
এমন সময় হরেন খাটিয়ে থেকে এক লাফে উঠে বসে।
আমাদের সবাইকে অবাক করে দিয়ে বলে , কেন শ্যালা 
আমার মুখে আগুন দিবি , শ্যালা আমি কি মরে গেইছি  ?
আমরা সবাই একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে ।
আমি আমতা -আমতা করে বললাম ,তাহলে তোমাকে আমরা
কত করে ডাকলাম , তোমার বৌ কত করে ডাকলো , আমরা
সবাই তোমার ঘরের দরজা ভেঙে তোমাকে বাহিরে আনলাম,
তারপর তোমাকে খাটিয়ায় তুলে শ্মশানে আনলাম ,
এত কিছুর পর তুমি কিছু বলেনা তো-----?
কেনে সাড়া দিবু কেনে , তোমরা জানো না যে আজ কে
স্লিপ ডে , যত সব , আমার কাঁচা ঘুমটা শুধু  - শুধু ভাঙিয়ে 
দিলে ।
আমরা ফ্যাল - ফ্যাল‌ করে একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে
বলে উঠলাম সত্যিই তো আজ স্লিপ ডে -----------✍️
--------------------------------------------------------------------------------                                    নমস্কার 🙏
সবাই ভালো থাকবেন,আর আমার এই লেখাটি আপনার 
কেমন লেগেছে জানাবেন।আপ মূল্যবান মতামত এর আশায় রইলাম। 




Comments

Samirblogpost.com

" জীবন যুদ্ধে হার না মানা এক মেয়ের কথা "

জন্ম হয়েছিল তার এক অতি গরীব দিন আনে দিন খায় পরিপারে। বাবা লোকের জমিতে দিন মজুরের কাজ করে। তাই ছোট থেকে ভালো খাওয়া, ভালো জামা-কাপড় পড়া, ভালো কোন সখ-আহ্লাদ,কোন কিছুই ভালো পাইনি সে। তবে এতকিছু ভালো না পাওয়ার পরেও লেখা-পড়ায় ভালো ছিল সে।  কিন্তু গরিব বাবা তার পড়াশোনার খরচ চালাবে কি করে ? তাই মাধ্যমিক পরীক্ষার পর বিয়ে দিয়ে দিল তার। মেয়েটি ভেবেছিলো বাপের বাড়ীতে তার যা কিছু না-পাওয়া গুলো হয়তো সে তার শ্বশুড় বাড়িতে পেয়ে যাবে। কিন্তু বিধি বাম-------- বিয়ে হলো তার সেই দিন-আনে,দিন-খায় এরকম এক ছেলের সাথে। শুরু হলো তার এক নতুন জীবন কন্যা থেকে বধু , কুমারী জীবন থেকে বিবাহিত‌ জীবন । এরপর সময়ের নিয়মে তার সংসারে আলো‌ করে এলো এক নতুন অতিথি ফুলের মতো এক ফুট-ফুটে মেয়ে তার কন্যা সন্তান। জীবনে এই প্রথম না পাওয়ার  ব্যথা-যন্ত্রণা সব ভুলিয়ে দিল এক অনাবিল সুখ ও আনন্দ তাহলো মাতৃত্বের । কন্যা থেকে বধু  , জায়া থেকে মাতা , পরিপূন্য হলো জীবনের একটি বৃত্ত। এই ছোট্ট কন্যাকে নিয়ে ‌‌‌‌‌‌‌ছোট্ট - ছোট্ট সব সনালী স্বপ্নের জাল বুনতো শুরু করলো সে। কিন্তু নিয়তি ন্যঃ বাধ্যতে ------- এমন ...

* বাস্তব *

আজকের গল্প-----* বাস্তব *       রচনা---------সমীর ✍️ আমাদের পাশের গ্রামেই , প্রিয়ব্রত দের বাড়ি----- আমি আর প্রিয়ব্রত ছোটবেলা থেকে একসাথে লেখাপড়া করেছি। আমার মাথা মোটা তাই , লেখাপড়া বেশি দূর করতে পারিনি। টেনেটুনে কোনরকমে উচ্চ মাধ্যমিকটা পার হয়েছিলাম। প্রিয়ব্রতর  মাথা সরু , তাই শুরু থেকেই লেখাপড়ায় ও খুব ভালো ছিল। মাধ্যমিকে তিনটে লেটারসহ স্টার পেয়েছিল। ওদের বাড়ির অবস্থা খুব ভালো ছিল না। তাই মাধ্যমিকের পরেই। ওর বাবা প্রিয়ব্রতর পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল। প্রিয়ব্রতর  পড়াশোনা বন্ধ হয়েই যেত----- যদি না সেই সময়ে কয়েকজন শিক্ষক মহাশয় ,ও পাড়ার কিছু সহৃদয় ব্যক্তি , সাহায্যের হাত না বাড়িয়ে দিতেন। এভাবেই প্রিয়ব্রত কোনরকমে , উচ্চমাধ্যমিকের লেখাপড়াটা চালিয়ে গিয়েছিল। এবং বলা বাহুল্য  , উচ্চমাধ্যমিকে সে খুব ভালো নাম্বার নিয়ে সে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছিল। কিন্তু এবার কলেজের পড়াশোনা , কিভাবে চালাবে সে---- তাই সে ঠিক করল। সকাল সন্ধ্যা টিউশনি পরিয়ে , সে তার কলেজের লেখাপড়ার খরচ চালাবে। সেই মতো সে  তার পড়াশোনার পাশাপাশি...

স্মল বিজনেস আইডিয়া পর্ব-১

স্মল বিজনেস আইডিয়া পর্ব-১ মাএ ৩০০০.০০(তিন) হাজার 💰 টাকা পুঁজি নিয়ে ঝুঁকি বিহীন লাভজনক একটি ব্যবসা। নিজের মনে আত্ম বিশ্বাস আর প্ররিশ্রম করার মানসিকতা থাকলে। মাএ তিন হাজার 💰 টাকা পুঁজি নিয়ে আপনি শুরু করতে পারেন। ঝুঁকি বিহীন লাভজনক একটি নিজের স্বাধীন ব্যবসা। *ব্যবসাটি হলো ঔষধ দেওয়া খামের ব্যবসা* আপনারা যখন মেডিক্যাল সপ বা ঔষধের দোকানে  ওষুধ কেনেন তখন দেখে থাকবেন ঔষধ দোকানদার আপনাকে( ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল) ওষুধ একটি সাদা কাগজের ঠোঙ্গা বা খামে ভরে সেই ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল ওষুধ আপনার হাতে ধরিয়ে দেন। আজকের বিজনেস আইডিয়াটি হলো এই ওষুধ দেওয়া খামের ব্যবসা। এই ওষুধ দেওয়া খামের ব্যবসাটি আপনি দুই ভাবে করতে পারেন। ১। এই ওষুধ দেওয়া খাম পাইকারি বাজার থেকে কিনে। ২। এই ওষুধ দেওয়া খাম নিজে বাড়িতে বসে তৈরী করে। যদি আপনি পাইকারি বাজার থেকে এই খাম কিনে ব্যবসা করতে করতে👇  তাহলে কলকাতা বড়বাজার অঞ্চলে ওল্ড চিনে বাজারে এই খাম গুলি পাইকারি দামে কিনতে পারবেন। ওল্ড চিনেবাজার হলো কলকাতা বড়বাজার অঞ্চলে ট্রিপল পট্টির ঠিক উল্টো দিকে। কলকাতা বড়বাজারে ট্রিপলপট্টি গিয়ে কাউকে জিজ্ঞেস করলে আপনাকে ...